#Untitled
(Collected from #Facebook)
আমরা কি অদ্ভুত জীব, তাই না!! হ্যাঁ, আজকাল নিজেদের মানুষ বলতে লজ্জা লাগে আমার। একজন উচ্চমাধ্যমিকের ছাত্রী আমব্রেলা বানান ভুল বললে আমরা তাকে নিয়ে খিল্লি করে ট্রলের বন্যায় ভাসিয়ে তাকে ভাইরাল করি। আবার একজন ছাত্র বা ছাত্রী বোর্ড পরীক্ষায় ভালো র্যাঙ্ক করলেও আমরা তাকে নিয়ে ট্রল করতে ছাড়ি না। আচ্ছা, ঠিক কি চাই আমরা?? আমরা কিসে খুশী?? ছাত্রছাত্রীরা লেখাপড়া করে সফল হলে আমরা খুশী, নাকি তারা লেখাপড়া না করলে আমরা খুশী!! আমি সত্যিই খুব কনফিউজড। মাধ্যমিকে প্রথম দেবদত্তা মাঝি। তার ছোট ছোট করে কাটা চুলের জন্য তাকে ট্রল করা হলো "হিজড়া" বলে। উচ্চমাধ্যমিকে প্রথম শুভ্রাংশু সর্দার। তাকে ট্রল করা হচ্ছে "বুড়ো দাদু" বলে। ছিঃ....ঘেন্না হচ্ছে আমার। আমাদের মতো বুড়োধারীরা এই বাচ্চা ছেলেমেয়েগুলোকে বডিশেমিং করবো, অহেতুক অপমান করবো, আবার আমরাই আস্ফালন করবো আজকালকার ছেলেমেয়েরা বড়দের সম্মান করতে জানে না। এ কোন সমাজের জীব আমরা!! লজ্জা লাগা উচিৎ আমাদের। সোশ্যাল মিডিয়ায় আমার একটা একাউন্ট আছে মানেই আমার যেন অধিকার জন্মে গেল আমি যার তার কমেন্টবক্সে গিয়ে যা তা লিখে দিয়ে আসতে পারি, কি অদ্ভুত ব্যাপার!! যারা এই ছোট ছোট ছেলেমেয়েগুলোকে এভাবে অহেতুক বাক্যবাণে আক্রমণ করছেন তাদের নিজেদের কি সন্তান নেই? না কি কোনোদিন হবে না?? নিজের সন্তানের সাফল্যে তারা খুশী হন না?? তাদের নিজেদের সন্তানকে যদি কেউ এভাবে নোংরা ভাষায় বডিশেমিং করে তাহলে কি তাদের খুব আনন্দ হয়??? এবারের উচ্চমাধ্যমিক টপারদের ইন্টারভিউগুলো কতজন ঠিকভাবে শুনেছেন আমার জানা নেই। কি ম্যাচিওর, কি ক্ষুরধার বক্তব্য, কি অসাধারণ সুন্দর গুছিয়ে কথা বলার ক্ষমতা!! রেজাল্টে সফল মানেই শুধু বইয়ের পাতায় মুখ গুঁজে থাকা নয়, পারিপার্শ্বিক সামাজিক পরিস্থিতি নিয়েও এরা কতটা সচেতন এদের কথাবার্তাতেই সেটা স্পষ্ট। সাংবাদিকদের বাঁধা গতের বোকা বোকা প্রশ্নের ঝকঝকে স্মার্ট উত্তর। শুভ্রাংশু সর্দারকে উদ্ধত, অহংকারী বলেও ট্রল করা হচ্ছে, কারণ একটি প্রশ্নের উত্তরে শুভ্রাংশু বলেছে, "তার সাফল্যে সবচেয়ে বড় অবদান তার নিজের, কারণ পরীক্ষাটা সে নিজে দিয়েছে".....আচ্ছা, এর চেয়ে বড় সত্যি কথা আর কিছু আছে কি!! বাবা-মা, শিক্ষক-শিক্ষিকা সবাই সাপোর্ট করতে পারেন, কিন্তু আসল কাজটা তো করতে হয় একজন পরীক্ষার্থীকেই। একটু গভীরভাবে ভেবে দেখলেই বোঝা যাবে কতবড় একটা বাস্তব কথা শুভ্রাংশু অকপটে বলতে পেরেছে। এদের কাছ থেকে আমাদেরও অনেককিছু শেখার আছে। আমার তো মনে হয় প্রতিটি ছাত্রছাত্রীরই উচিত এদের ইন্টারভিউগুলো শোনা। আসলে আমাদের সমস্যাটা বোধহয় অন্য জায়গায়। এই পচাগলা, ঘুণ ধরা সমাজটায় দাঁড়িয়েও যে এই ছোট্ট ছোট্ট ছেলেমেয়েগুলো অকুতোভয় হয়ে শিরদাঁড়া সোজা রেখে কথা বলছে এটা বোধহয় আমরা নিতে পারছি না। আর তাই এদের নিয়ে কত্ত মস্কড়ার ঘটা। "এত নম্বর পেয়ে, র্যাঙ্ক করে এরা ভবিষ্যতে করবেটা কি, এদের নাকি কয়েকবছর বাদে আর খুঁজে পাওয়া যাবে না, এরা হারিয়ে যাবে।".... হ্যাঁ তাই যাক, হারিয়ে যাক, ফুরিয়ে যাক যা হয় হোক, তাতে আমার আপনার কি?? এরা কিচ্ছু না করতে পারুক, না খেতে পেয়ে মরে যাক, তাতেই বা আমার আপনার কি??? তবে আর যাই করুক না কেন, এরা কখোনোই যে আমার আপনার মতো এভাবে অহেতুক অন্যকে নোংরা কদর্য ভাষায় আক্রমণ করবে না, এটুকু আমি গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি।🙏🙏🙏 অনেক অনেক শুভেচ্ছা আর অভিনন্দন মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক উত্তীর্ণ সকল ছাত্রছাত্রীর জন্য। তোমাদের হাত ধরেই সমাজটার পরিবর্তন হোক, শুধু এটুকুই চাওয়া... ❤️❤️❤️
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন